ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরম

ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরম হচ্ছে এমন একটি ফরম যেখানে একজন ভাড়াটিয়াকে তার ব্যক্তিগত পরিচয়ের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে হয়। মুলত নগরবাসীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া ও মেস সদস্যদের তথ্য নিবন্ধনের লক্ষ্যে ২০১৬ সালে বৃহৎ পরিসরে এই কার্যক্রম শুরু করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এর পূর্বে তৎকালীন সেই সময় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে নানারকম জঙ্গি তৎপরতা চালাতে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকেই মুলত জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করেছিলেন।

ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরমে একজন ভাড়াটিয়াকে কি কি তথ্য পুরন করতে হয়

ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরমে মুলত একজন ভাড়াটিয়ার নিজের ও পরিবারের বেশকিছু তথ্য প্রদান করতে হয়। যেমনঃ ভাড়াটিয়ার নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, জন্ম তারিখ, স্থায়ী ঠিকানা, পেশা, মোবাইল নাম্বার, জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার, পাসপোর্ট নাম্বার( যদি থাকে) ইত্যাদি। পাশপাশি, ভাড়াটিয়ার এক কপি ছবি, মেসের অন্যান্য সদস্যদের বিবরণ, গৃহকর্মীর নাম, ড্রাইভারের নাম, পূর্বের বাড়িওয়ালার নাম ইত্যাদি তথ্যও প্রদান করতে হয়।

সম্পূর্ণ ফরমটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরমটি কোথায় পাওয়া যাবে ও কোথায় জমা দিতে হবে?

ঢাকা মহানগর পুলিশ কর্তৃক নির্ধারিত এই ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরমটি আপনার নিকটস্থ প্রত্যেকটি থানা বা ফাঁড়িতে পাওয়া যাবে। পাশপাশি, এখন ডিজিটাল যুগে চাইলে আপনি ঘরে বসেই অনলাইন থেকে এই ফরম ডাউনলোড করে সেটা প্রিন্ট করে ভাড়াটিয়াদের দ্বারা সেটা সম্পূর্ণ পুরন করে নিকটস্থ থাকায় সেটা জমা দিতে হবে।

ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরমে ভুল তথ্য দিলে কি হবে

একজন অপরাধী কারো বাড়িতে ভাড়া থাকার জন্য ভুল তথ্য দিয়ে ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরমটি পুরন করে নিজেকে চালাক ভাবতে পারে। তবে কেউ এই কাজ করে থাকে তবে সে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারার মত ভয়াবহ কাজ করেছে। কারন নিবন্ধন ফরমটি নিকটস্থ থানায় জমা হওয়ার পর দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার ভাড়াটিয়ার দেওয়া সমস্ত তথ্য যাচাই – বাছাই করে থাকেন। ভাড়াটিয়ার মোবাইল নাম্বার থেকে শুরু করে , জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার ও তার পরিবারের সকল তথ্য যাচাই করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ভাড়াটিয়ার দ্বারা প্রদত্ত তথ্যে ইচ্ছাকৃত কোন ভুল পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।

নিবন্ধিত হলে বাড়িওয়ালার সুবিধা কি কি

  • কোন জঙ্গি, সন্ত্রাসী কিংবা অপরাধি বাড়িতে ভাড়া নিতে পারবে না।
  • ভাড়াটিয়া কোন অপরাধে আইনগত জটিলতায় পড়লে বাড়িওয়ালাকে কোন হয়রানির স্বীকার হতে হবে না।
  • ভাড়াটিয়া যদি সত্যিই কোন অপরাধী হয়ে থাকে তবে নিবন্ধন ফরমটি পুরন করতে গড়িমসি করবে এবং পরের দিনই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে।

নিবন্ধিত হলে ভাড়াটিয়ার সুবিধা কি কি

  • বাড়িওয়ালা বা প্রতেবেশি কর্তৃক কোন মিথ্যা হয়রানির স্বীকার কিংবা পুলিশের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
  • গভির রাতে ঢাকা শহরে চলাফেরায় বিট অফিসারের সাথে পরিচিত থাকায় অহেতুক ঝামেলা পোহাতে হয় না।
  • ভাড়াটিয়ার সকল তথ্য পুলিশের ডেটাবেজে জমা থাকায় ভাড়াটিয়া কোন কারনে নিখোঁজ কিংবা কোন দুর্ঘটনা ঘটলে খুব সহজেই পুলিশ সেই ভাড়াটিয়ার প্রদত্ত তথ্য থেকে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাকে সাহায্য করতে পারে।

নিবন্ধিত হলে অপরাধী সনাক্তকরনে পুলিশের সুবিধা কি কি

  • অপরাধ করে কোন ভাড়াটিয়া পালিয়ে গেলে পুলিশের কাছে থাকা ডেটাবেজ থেকে তার প্রদত্ত তথ্যের ভিক্তিতে অপরাধীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
  • থানায় কোন অপরাধীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় প্রাপ্ত তথ্যের সহিত নিবন্ধন ফরমে দেওয়া তথ্যের সহিত মিল না থাকলে বুঝা যাবে লোকটি মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। তখন পুলিশের জেরা করতে সুবিধা হয়।
  • পুলিশের ডাটাবেজে সকলের তথ্য লিপিবদ্ধ থাকায় মানুষের অপরাধ করার প্রবানতা কমবে।

About Author

Leave a Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *